নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশের টানে আবার নদীতে জেলেরা

Apr 30, 2025 - 19:56
 0  4
নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশের টানে আবার নদীতে জেলেরা

ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—এই দু’মাস মেঘনা ও পদ্মা নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১ মে ২০২৫) থেকে নদীতে নামছেন চাঁদপুরের হাজারো নিবন্ধিত জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নদীতে মাছ ধরতে পারার সুযোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে প্রকৃত ইলিশ জেলেদের মধ্যে।

তবে জেলেদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও এখনই বড় ইলিশ ধরা পড়বে না। নদীতে পানি বাড়লে বর্ষার সময় ইলিশ পাওয়া যাবে বেশি—এমনটাই মনে করছেন বড় জাল ও নৌকার অভিজ্ঞ জেলেরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এতদিন যেসব আড়ত ছিলো সুনসান, সেগুলো আবারও মুখর হয়ে উঠছে জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের হাঁকডাকে। জেলেরা প্রস্তুত হচ্ছেন পুরোনো জাল মেরামত, নৌকায় আলকাতরা লাগানো এবং নতুন জাল বুনে নদীতে নামার জন্য। নতুন নৌকা ও জাল নদীতে নামানোর আনুষ্ঠানিকতা 'জাল সাভার'-এ রূপ নিয়েছে। এতে রঙিন পতাকা, সোলার বাতি লাগিয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করছেন জেলেরা।

জানা গেছে, চাঁদপুর জেলায় ৪৪ হাজার ৩৫ জন নিবন্ধিতসহ প্রায় ৫০ হাজার জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়টা তাদের জন্য ছিল অনেকটা কর্মহীন দিন। ছোট জাল বা ‘কারেন্ট জাল’ ব্যবহার করে কিছু অসাধু জেলে যদিও গোপনে নদীতে নেমেছেন, তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব তৎপরতা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে বড় জালের জেলেদের পক্ষ থেকে।

জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা-মেঘনায় এই অভয়াশ্রম কার্যকর ছিল। এ সময় জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল সরবরাহ করা হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড এবং পুলিশের সমন্বিত অভিযানে এবার অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে ছিল কড়াকড়ি নজরদারি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “দুই মাসের অভয়াশ্রম কার্যকর রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এবার ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি। জেলেরা এতে উপকৃত হবেন এবং স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান জানান, “এবারের অভিযানে ৩৮টি মোবাইল কোর্ট, ৭৯৫টি অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১০.৯ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৬.৪৬৩ টন জাটকা। এছাড়াও ৩৫০ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ১৮০টি অভিযান চালিয়ে ১৭ টন জাটকা, ১৪ লাখ মিটার কারেন্টজাল ও ৭টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ১৭ জন জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়।

তবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম সামনে থাকায় এবং বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে প্রকৃত ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি বলেই মনে করছেন জেলেরা। আর প্রশাসনের আশা, কঠোর অভিযান ও নজরদারির ফলে এবারের মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আগের চেয়ে অনেকটাই বাড়বে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0